উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম-এর যোগদান
Jun 08, 2026
Jun 08, 2026
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম-এর যোগদান
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ০৮ জুন ২০২৬
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম গতকাল সন্ধ্যায় নিজ নিজ পদে যোগদান করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের উপস্থিতিতে প্রশাসনিক ভবনের কাউন্সিল কক্ষে সন্ধ্যায় তাঁরা যোগদান করেন। এর আগে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদ স্বাক্ষরিত আলাদা প্রজ্ঞাপনে চার বছরের জন্য তাঁদেরকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
যোগদান অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অংশীজন—শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং ছাত্র সংগঠনগুলোর সম্মিলিত সহযোগিতায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই । আমাদের প্রশাসনে কোনো প্রতিহিংসা বা ঘৃণার স্থান থাকবে না। আগামী ১৭ তারিখ থেকে প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু করার যে লক্ষ্য রয়েছে, আমরা প্রথমদিন থেকেই তাদের আবাসিক হলে সিটের ব্যবস্থা করতে চাই, তা বাস্তবায়নে আমরা সকল ছাত্র সংগঠনগুলোর সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি। আমাদের ক্যাম্পাস 'গণরুম' সংস্কৃতির কলঙ্ক থেকে মুক্ত করতে চাই। এছাড়া, ক্যাম্পাসে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর।
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম সততার সঙ্গে দায়িত্বপালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বৈষম্যহীন রাজনৈতিক পরিবেশ ও সকল ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করা, যা শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য অপরিহার্য। বিগত সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা গজানি শিক্ষার্থীরা আবাসন সংকটের কারণে কতটা কষ্টের সম্মুখীন হয়েছে, তাই আমাদের অগ্রাধিকার হলো গণরুম প্রথা বিলুপ্ত করে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুন্দর আবাসিক ও সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে তারাই হবে দেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান তাঁর বক্তব্যে বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আদর্শ বিদ্যাপীঠ হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের মূল লক্ষ্য। নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্যবৃন্দের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও ছাত্রবান্ধব পরিচিতি আমাদের এই পথ চলাকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আমরা একটি দুর্নীতিমুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসন নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ, যেখানে রাজনৈতিক বিশ্বাসের ভিন্নতা কারো পদোন্নতি বা অধিকারে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সহাবস্থানের সংস্কৃতি বজায় রাখা হবে, যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে নিরাপদ থাকে এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দেশের জন্য একটি উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। আমরা সততা ও নিষ্ঠার সাথে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে উঠে বিশ্ববিদ্যালয়কে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই।
যোগদান অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ, শিক্ষক সমিতি, অফিসার সমিতি, জাকসু'র প্রতিনিধি, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক সমিতি ও প্রেসক্লাবের প্রতিনিধি, কর্মচারী সমিতি, কর্মচারী ইউনিয়নের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন
পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত)
অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলমের জীবনী
সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) পদে যোগদানের পূর্বে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন-এর (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্ব পালন করছিলেন। অধ্যাপক আলম ১৯৮৮ সাল থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগে শিক্ষকতা ও গবেষণায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আল মাসুদ হাসানউজ্জামানের সাথে যৌথভাবে ‘Political Management in Bangladesh’ শীর্ষক একটি গ্রন্থ সম্পাদনা করেছেন। ‘সামরিক শাসনের সংকট ও রাজনৈতিক উন্নয়ন: বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক তাঁর ডক্টরাল গবেষণাপত্রটি শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক এবং গবেষকদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছে। তিনি উল্লেখযোগ্য শিক্ষার্থীর পিএইচডি ও এমফিল তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অধ্যাপক আলম বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বহি:স্থ বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক হলের প্রভোস্ট, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সভাপতি, পরিবহন অফিসের প্রশাসক, উচ্চশিক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান, একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট ক্যাটাগরী থেকে নির্বাচিত সিনেট সদস্য ও সিন্ডিকেট সদস্যপদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে অধ্যাপক আলম বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, জনমুখী রাষ্ট্র দর্শন, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন দ্বারা অনুপ্রাণিত ও উৎসাহিত হয়েছিলেন।
অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলামের জীবনী
অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম একজন প্রখ্যাত গণিতবিদ, নিষ্ঠাবান শিক্ষাবিদ এবং সমাজচিন্তক। ১৫ আগস্ট ১৯৭৬ সালে কুমিল্লা জেলার মেঘনা উপজেলায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিত বিষয়ে বিএসসি (সম্মান) ও এমএসসি পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর লাভ করায় চ্যান্সেলর কর্তৃক দুইটি স্বর্ণপদক লাভ করেন। তিনি Erasmus Mundus স্কলারশিপ জার্মানি ও রোমানিয়া থেকে এমএসসি ডিগ্রি এবং একই স্কলারশিপে পোলান্ড, রোমানিয়া এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে ২০০২ সাল থেকে শিক্ষকতা ও গবেষণার সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত রয়েছেন। তিনি বহি:স্থ বিশেষজ্ঞ হিসেবে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পিএইচডি, এমফিল এবং মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের গবেষণা তত্ত্বাবধান করেছেন। ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলামের প্রাতিষ্ঠানিক ও গবেষণার আগ্রহের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে অপারেশনস রিসার্চ, সংখ্যাতত্ত্ব, ক্যালকুলাস এবং পরিসংখ্যান। উচ্চশিক্ষায় দুই দশকেরও বেশি অভিজ্ঞতার আলোকে, তিনি গণিত গবেষণার অগ্রগতি, উদীয়মান গবেষকদের পথপ্রদর্শন এবং জাতীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক উভয় পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে অবদান রাখছেন।
ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচিত সিনেট সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজিলতুন্নেছা হলের প্রভোস্ট এবং প্রভোস্ট কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি টাঙ্গাইল জেলার মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান আদর্শ কলেজ ও সাভারের মির্জা গোলাম হাফিজ কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী শিক্ষক নেতা হিসেবে সুপরিচিত। তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই বিপ্লবে সাহসী ভূমিকা পালন করেন এবং ছাত্র-শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সংগঠন সম্পাদক, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ইউনিভার্সিটি টিচার্স এ্যাসোসিয়েশনে যুক্ত আছেন। সত্যনিষ্ঠা, স্পষ্টবাদিতা ও মুক্তচিন্তার জন্য পরিচিত অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উচ্চশিক্ষার প্রসারে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন।
Recent Press Releases
- Final Research Findings and Impacts of the World Bank Funded Resesrch Projects শীর্ষক ৩ দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু
- উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম-এর যোগদান
- উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম-এর যোগদান
- জাবি উপাচার্যের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লেইসেস্টার প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ
- জাবি উপাচার্য ও জাকসুর নেতৃবৃন্দের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ
- Meet The Ambassador-Talking Diplomacy for Cooperation শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান
- AI Tools and Intelligent Workflows for Modern Research শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সম্পন্ন
- ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে বহিরাগত দুষ্কৃতিকারী কর্তৃক টেনে-হিচড়ে অন্ধকার স্থানে নিয়ে ধর্ষণ ও প্রাণনাশের চেষ্টার ঘটনা পরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুষ্কৃতিকারীকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ
- জাবি জলাশয়ে ৪১২ কেজি মাছের পোনা অবমুক্তকরণ