ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে বহিরাগত দুষ্কৃতিকারী কর্তৃক টেনে-হিচড়ে অন্ধকার স্থানে নিয়ে ধর্ষণ ও প্রাণনাশের চেষ্টার ঘটনা পরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুষ্কৃতিকারীকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ
May 15, 2026

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে বহিরাগত দুষ্কৃতিকারী কর্তৃক টেনে-হিচড়ে অন্ধকার স্থানে নিয়ে ধর্ষণ ও প্রাণনাশের চেষ্টার ঘটনা পরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুষ্কৃতিকারীকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ

 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ১৫ মে ২০২৬

 

সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন নারী শিক্ষার্থী রাতে আবাসিক হলে ফেরার পথে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে বহিরাগত জনৈক দুষ্কৃতিকারী কর্তৃক টেনে-হিচড়ে অন্ধকার স্থানে নিয়ে ধর্ষণ ও প্রাণনাশের চেষ্টার ঘটনা পরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুষ্কৃতিকারীকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আজ বিকেল সাড়ে পাঁচটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. রাশিদুল আলম গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের নিকট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এতদ্বিষয়ে গৃহীত কার্যক্রম তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রক্টর ন্যাক্কারজনক এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং দুষ্কৃতিকারীকে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এ সময় প্রক্টর জানান, গত ১২ মে ২০২৬ তারিখ মঙ্গলবার রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ও প্রাণনাশের চেষ্টার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন সংগঠন কর্তৃক প্রদত্ত দাবি-দাওয়ার প্রেক্ষিতে ১৪ মে ২০২৬ তারিখ, বেলা ৩:০০ টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে এক জরুরি প্রশাসনিক সভায় ১৪টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রক্টর ১৪টি সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন। এসব সিদ্ধান্ত হলো:

 

১. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা ঘাটতি সংক্রান্ত অভিযোগ আমলে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যেএকটি কুইক রেসপন্স টিম গঠন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই টিমের সদস্যগণকে নিয়মিতভাবে প্রশাসনের নিকট জবাবদিহিতার আওতায় রাখা হবে। উল্লেখ্য, উক্ত টিমের সদস্যগণকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ভাতা দেয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

 

২. স্বল্পতম সময়ের মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে অবগতির লক্ষ্যে একটি হটলাইন নম্বর চালু করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো।

 

৩. বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীগণকে পরিচয়পত্র বহন ও প্রদর্শন করার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রচারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো।

 

৪. বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার স্বার্থে সকল প্রবেশপথ দিয়ে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত

 

হয়। উল্লেখ্য, প্রবেশপথে দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তা/ইন্সপেক্টর/প্রহরীদের নিকট বহিরাগতদের স্ব-স্ব পরিচয়পত্র প্রদর্শন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার উদ্দেশ্য গেইটে রক্ষিত লগবুকে লিখে ও স্বাক্ষর করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের চারপাশে বসবাসকারী যে সকল ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে চান তাদেরকে প্রথমবার প্রবেশপথে রক্ষিত ফরম পূরণ করা সাপেক্ষে বৈধ পাস প্রদান করে যাতায়াতের অনুমতি দেয়া হবে। বৈধ পাস প্রাপ্ত ব্যক্তিগণ প্রবেশপথে দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তা/ইন্সপেক্টর/ প্রহরীদের নিকট উক্ত পাস প্রদর্শন সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করতে পারবেন।

 

৫. শ্বিবিদ্যালয়ে নির্মাণ কাজে নিয়োজিত সংস্থাসমূহের শ্রমিক ও কর্মকর্তাগণকে উক্ত সংস্থা কর্তৃক পরিচয়পত্র সরবরাহ করা হবে। নির্মাণ শ্রমিক ও কর্মকর্তাগণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থানকালে পরিচয়পত্র বহন ও প্রদর্শন করতে বাধ্য থাকবেন।

 

৬. বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত সকল ধরনের দোকানের কর্মচারীগণ স্ব-স্ব দোকান মালিক কর্তৃক প্রদত্ত পরিচয়পত্র বহন ও প্রদর্শন করতে বাধ্য থাকবেন। উল্লেখ্য, দোকান মালিক ও দোকানের কর্মচারীগণের জাতীয় পরিচয়পত্র ও দোকান মালিক কর্তৃক প্রদত্ত পরিচয়পত্রের কপি বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখায় জমা দিতে হবে।

 

৭. বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান অধিকতর উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালককে প্রকল্পের আওতাধীন সকল নির্মাণাধীন সাইটে কর্মরত নির্মাণ শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাগণের জাতীয় পরিচয়পত্র ও সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত পরিচয়পত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় জমা দেবার নির্দেশনা প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একইসাথে সকল নির্মাণ প্রতিষ্ঠানকে তাদের নির্মাণ শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাগণের পরিচয়পত্র প্রদান করতে হবে বলে প্রকল্প পরিচালকের মাধ্যমে নির্দেশনা দেবার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

 

৮. বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সকল ভ্রাম্যমাণ দোকান তুলে দেবার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো।

 

৯. হল প্রভোস্ট কর্তৃক হল সংশ্লিষ্ট দোকানের কর্মচারীদের তথ্য এবং এস্টেট শাখাকে এস্টেট শাখার অধীন দোকানের তথ্য নিরাপত্তা শাখায় প্রদান করতে হবে। নিরাপত্তা শাখায় রক্ষিত তথ্যসমূহ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেল কর্তৃক একটি ডাটা বেইজ তৈরি করা হবে বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

 

১০. বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি প্রবেশপথে নিরাপত্তা প্রহরীর সংখ্যা বৃদ্ধি করে নিরাপত্তা জোরদার করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ গেইট, প্রান্তিক গেইট ও গেরুয়া গেইটে দিনের দুই শিফটে কমপক্ষে ০৩ জন করে এবং রাতের শিফটে কমপক্ষে ০২ জন করে নিরাপত্তা প্রহরী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ লক্ষ্যে নিরাপত্তারক্ষীদের শূন্য পদসমূহে শারীরিকভাবে সক্ষম ও দক্ষ, নিরাপত্তা কাজে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন পুরুষ ও নারী নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। অভ্যন্তরীণ বিজ্ঞপ্তি প্রচারের মাধ্যমে এক মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আরো ১০০ জন আনসার সদস্য মোতায়েনের লক্ষ্যে ইউজিসিতে অনুমোদনের জন্য অনুরোধপত্র প্রেরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

 

১১. বিশ্ববিদ্যালয় প্রবেশপথসমূহে নির্মিত গেইট এবং সীমানা প্রাচীরে ত্রুটি চিহ্নিত করে দ্রুততম সময়ে তা মেরামত/বন্ধ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সীমানা প্রাচীরের কোথাও প্রাচীর ভেঙে অননুমোদিত প্রবেশ পথ তৈরি করলে বা পাওয়া গেলে তা দ্রুততম সময়ে বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানসমূহ চিহ্নিত করে সেখানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ সকল কাজ নিরাপত্তা শাখার সহায়তা নিয়ে প্রকৌশল অফিস সম্পন্ন করবে বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

 

১২. সিসি ক্যামেরা স্থাপন সংক্রান্ত কমিটির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে সেখানে সিসি ক্যামেরা

 

স্থাপন করে নিরাপত্তা জোরদারের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

১৩. আলবেরুনী হলের (টিনশেড) এক্সটেনশন ভবনটি অবিলম্বে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

 

১৪. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বুলিং/সাইবার বুলিং/র‍্যাগিং প্রতিরোধে 'শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বুলিং ও র‍্যাগিং প্রতিরোধ সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৩' কার্যকর করার লক্ষ্যে উক্ত নীতিমালার আলোকে পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় একটি স্থায়ী কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান, সহকারী প্রক্টরবৃন্দ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন

পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত)

জনসংযোগ অফিস

Recent Press Releases